বেইলি রোডের অগ্নিকান্ড ও আমাদের ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের দায়!
বেইলি রোডের একটি বহুতল ভবনে অগ্নিকান্ডে আহত ও নিহত হয়েছেন অনেক মানুষ। এরপর থেকে অনেকের মুখে শোনা যাচ্ছে একটি লাইন ‘বেইলি রোডের অগ্নিকান্ড ও আমাদের ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের দায়! শুনে আশ্চর্য হচ্ছেন নিশ্চয় এবং ভাবছেন অগ্নিকান্ডের ঘটনার সাথে ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের আবার কী সম্পর্ক?
ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের দিয়ে আমরা মনের মতো করে আমাদের বাসা বাড়ি, অফিস ও রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি সাজিয়ে নিচ্ছি। ডিজাইনাররা প্রচুর লাইট ও কাঠের ফলস সিলিং ব্যবহার করছেন। দেয়ালে এটে দিচ্ছেন প্রচুর কাঠ ও প্লাস্টিক সদৃশ বস্তু। ফলে আমাদের অনিরাপদ হয়ে উঠছে আমাদের ঘরগুলো। বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো।
যোগাযোগ করুন:
অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের দায়
ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা যেসব ইন্টেরিয়র নকশা করেন, অনেক নকশাই ঘরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অধিক অর্থ উপার্জনের জন্য এমনটা করে থাকেন ডিজাইনাররা। নিচে ঝুঁকিপূর্ণ কিছু নকশা উল্লেখ করা হলো:
- ফলস ওয়াল: ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য ফলস ওয়াল ব্যবহার করা হয়। অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে এসব ফলস ওয়াল সহজেই খুলে পড়ে। ফলে এ ওয়ালের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু হতে পারে যে কোনো মানুষের।
- ফলস সিলিং: বাসা বাড়ি, অফিস বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্য বাড়াতে ব্যবহার করা হয় ফলস সিলিং। প্রচন্ড বাতাস, ভূমিকম্প বা অগ্নিকান্ডের সময় এ সিলিংগুলো খুলে পড়ে যায়। এর নিচে চাপা পড়ে আহত ও নিহত হয় অনেক মানুষ। এছাড়াও এসব সিলিংয়ে ক্যামিক্যালের মিশ্রণ থাকে। ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
- গ্রাস কার্পেট: ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে ঘাসের মতো দেখতে গ্রাস কার্পেট ব্যবহার করে থাকেন অনেক ইন্টেরিয়র ডিজাইনার। আগুন লাগলে এ কার্পেটগুলোর কারণে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে যায়। বেইলি রোডের অগ্নিকান্ডে আমাদের ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের দায় রয়েছে। কারণ তাদের অপরিকল্পিত নকশার কারণে সেদিন অগ্নিকান্ড ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিলো।
- অত্যাধিক লাইটিং: অফিস বা রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রচুর লাইট ব্যবহার করেন কোনো কোনো ইন্টেরিয়র ডিজাইনার। কোনো এক জায়গায় আগুন লাগলে এ লাইটগুলোর কারণে পুরো ঘর ও ভবনে অল্প সময়ে ছড়িয়ে যায় আগুন। এ কারণে বেইলি রোডের অগ্নিকান্ড ভালোভাবে খতিয়ে দেখলে আমাদের ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের দায় চোখে পড়বে খুব সহজেই।
ঝুঁকিপূর্ণ ইন্টেরিয়র নকশা
উপরে ঝুঁকিপূর্ণ কিছু ইন্টেরিয়র নকশা তুলে ধরা হয়েছে। এ সেকশনেও আরো কিছু ঝুঁকিপূর্ণ নকশা তুলে ধরা হচ্ছে। যেগুলো জানলে ‘বেইলি রোডের অগ্নিকান্ড ও আমাদের ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের দায়’ সম্পর্কে পরিচ্ছন্ন ধারণা পাওয়া যাবে। চলুন জেনে নেই ঝুঁকিপূর্ণ নকশাগুলো:
- কাঁচের ব্যবহার: ইন্টেরিয়র ডিজাইনে অতিরিক্ত কাঁচের ব্যবহার করা হয়। এতে ঘরের সৌন্দর্য বাড়ার সাথে সাথে ঝুঁকিও বাড়ে। আগুন লাগলে মুহূর্তেই কাঁচ ভেঙ্গে যায় এবং আহত-নিহতের সংখ্যা বাড়ে।
- কৃত্রিম কাঠের বোর্ড: সৌন্দর্য বাড়াতে কৃত্রিম কাঠের ব্যবহার করা হয়। যেগুলো ওজনে অনেক ভারী হয়। আগুন লাগলে খুব অল্প সময়ে এ বোর্ডগুলো নিচে পড়ে যায় এবং হতাহতের সংখ্যা বাড়ে।
- আর্টিফিশিয়াল কার্পেট: হাজার হাজার টাকা খরচ করে ব্যবহার করা হয় আর্টিফিশিয়াল কার্পেট। অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে এ কার্পেটগুলোর মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন।
- বাহারি মেঝে: ঘরের আকর্ষণ বাড়াতে বাহারি মেঝে ব্যবহারের পরামর্শ দেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা। আগুন লাগলে এ বাহারি মেঝেই কাল হয়ে দাঁড়ায় সবার জন্য। তাই বলা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ নকশা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়ায় অগ্নিকান্ডের ঘটনায় আমাদের ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের দায় রয়েছে অনেক। যা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।
ইন্টেরিয়র ডিজাইন ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনার: সমস্যা কোথায়?
ইন্টেরিয়র ডিজাইন অত্যন্ত চমৎকার একটি কাজ ও পেশা। অল্প খরচে ও সময়ে ইন্টেরিয়র ডিজাইনের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা যায় বাসবাসের ঘর বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে। আর এ কাজ কেবল একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের পক্ষেই সম্ভব। সমস্যা ইন্টেরিয়র ডিজাইন ও ডিজাইনার নিয়ে নয়।
সমস্যা হলো, বেশি উপার্জনের জন্য যেসব ইন্টেরিয়র ডিজাইনার ঝুঁকিপূর্ণ ডিজাইন ব্যবহারের পরামর্শ দেন তাদেরকে নিয়ে। কারণ বেইলি রোডের ঘটনায় এ ধরনের ডিজাইনারদের দায় চোখে পড়েছে মানুষের। ফলে ‘বেইলি রোডের অগ্নিকান্ড ও আমাদের ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের দায়’ এ শিরোনামে লিখেছেন অনেক লেখক ও বিশ্লেষক।
শেষ কথা
ইন্টেরিয়র কনসেপ্ট অ্যান্ড ডিজাইন লিমিটেড বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় ইন্টেরিয়র ডিজাইন ফার্ম। এ ফার্ম বসবাসের ঘর, অফিস, শোরুম ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে সুনাম ও দক্ষতার সাথে ইন্টেরিয়র ডিজাইনের কাজ করে আসছে। ঝুঁকিমুক্ত ইন্টেরিয়র ডিজাইন দিয়ে ঘর সাজাতে হলে আজই যোগাযোগ করুন ইন্টেরিয়র কনসেপ্টের সাথে।
কল করুন:01618900555